
যাদের জীবন আছে খাবার তাদের প্রতিক্ষনের সঙ্গি। কেননা খবার ছাড়া সে অচল তো
বটেই প্রাণহীন হতেও বেশি লাগে না। খাবার গুলোর মধ্যে নানা খাবারে রয়েছে
নানা রকম বৈশিষ্ট্য ও গুনাবলী। খাবারের এ গুনাবলীর কারণেই গবেষকরা চিহ্নিত
করেছেন কোন কোন খাবারে কি কি ধরনের পুষ্টিমান রয়েছে। কোন খাবার শিশুদের
জন্য, কোনগুলো পরিশ্রমী মানুষদের জন্য, কোন কোন খাবার বৃদ্ধদের জন্য।
গবেষকরা গর্ভবর্তী নারীদের জন্য খাবারের বিশেষ একটি ফর্মূলা দিয়েছেন। নিচে এ
সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন তুলে ধরা হল৷
- যদিও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবারই রোজ দুধ খাওয়া দরকার কিন্তু
গর্ভবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে একটু বেশিই দরকার। বয়স বাড়ার সাথে নারীদের
শরীরে ক্যালসিয়াম কমতে থাকে ফলে হাড়ে ক্ষয় ধরে। তাই হাড় ক্ষয় রোধ করতে
প্রতিদিন খান এক গ্লাস দুধ। এছাড়া দুধের মধ্যে রিবোফাভিন, ভিটামিন বি১২,
পটাসিয়ামসহ দরকারি সব নিউট্রিয়েন্ট আছে। যা ত্বক উজ্জ্বল রাখার পাশাপাশি
দাঁতও মজবুত করে।
- অনেক নারীরা রক্তাল্পতায় ভোগেন। খাবারে তাই আয়রনের মাত্রা বাড়ানো
দরকার। আয়রন শুধু হিমোগ্লোবিন তৈরি করতেই সাহায্য করে না পেশী মজবুত করে ও
মস্তিস্কের উন্নতি ঘটায়। রেড মিট, ডিমের কুসুম, বিনস, সয়াবিন, মাছ ও
মুরগিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে। নারীদের রোজ ১২-১৫ গ্রাম আয়রন খাওয়া
উচিত।
- পেয়ারা, কমলালেবু, আঙুর, আপেল, কলা, স্ট্রবেরি এই সব ফলের মধ্য প্রচুর
পরিমাণে ভিটামিন সি আছে। নারীরা রোজ ৭৫ গ্রাম করে ভিটামিন সি খেলে উপকার
পাবেন। আখরোট রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। তাই রোজ অল্প পরিমাণ
আখরোট খেলে হার্ট ভালো থাকে।
- টাটকা শাকসবজি যেমন- বাঁধা কপি, ফুল কপি, পালং শাক, লেটুস, ব্রকোলি
অবশ্যই খাবারের তালিকায় রাখা উচিত। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, পলিফেনল,
ভিটামিন এ, বি এবং সি আছে ।
- যদিও ফলিক অ্যাসিড সবার জন্যই দরকার কিন্তু গর্ভবর্তী নারীদের জন্য
বেশি জরুরি। বিভিন্ন শাক পাতা, ও কমলালেবুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফলিক
অ্যাসিড থাকে, এটি হার্টকেও সুস্থ রাখে।
- আমাদের শরীরের ৭৫ ভাগই তরল পদার্থ দিয়ে তৈরি। তাই প্রতিদিন ৮ থেকে ১০
গ্লাস জল পান করা উচিত। এতে শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন বেরিয়ে যায়, হজম
শক্তি বাড়ায়।